নতুন চার উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে ইউএস বাংলার বহরে

index.jpg

দেশের প্রথম শ্রেণীর আকাশ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের চার বছর পূর্ণ হওয়া  উপলক্ষে দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর নিজেদের বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে কোম্পনীটি।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা যেকোনও ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। যা আমাদের বহরে অধিকসংখ্যক আধুনিক বিমান যুক্ত করে চলেছি। এছাড়া অধিক গন্তব্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যেও কাজ করছি আমরা। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে ইউএস-বাংলা পরিবার আনন্দিত ও গর্বিত।’

বিগত ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ৭৬ আসনের দুটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ বিমান নিয়ে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে রয়েছে মোট সাতটি বিমান। এর মধ্যে রয়েছে ১৬৪ আসনের চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও ৭৬ আসনের তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০।

যাত্রা শুরুর একবছরের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সব রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, বরিশাল, রাজশাহী রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে এই প্রতিষ্ঠান।

বর্তমানে এয়ারলাইন্সটি সপ্তাহে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ৩৩০টির বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত চার বছরে ইউএস-বাংলা প্রায় ৪২ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে। যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৮.৭% অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ড রয়েছে বলে দাবি ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষের।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রা শুরুর দু’বছরের মধ্যে ২০১৬ সালের ১৫ মে ঢাকা-কাঠমাণ্ডু রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মধ্যেমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যায়। বর্তমানে ঢাকা থেকে কলকাতা, মাস্কট, দোহা, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজু রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা, মাস্কট এবং দোহা রুটেও  তাদের ফ্লাইট যাচ্ছে। আগামীতে আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম, দুবাই, হংকং, দিল্লি ও চেন্নাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

ইউএস-বাংলার টিকিট সংগ্রহের জন্য রয়েছে অনলাইন বুকিং ও হোম ডেলিভারি সুবিধা। বাংলাদেশে আছে তাদের ৩০টি সেলস অফিস। এছাড়া কাঠমাণ্ডু, কলকাতা, মাস্কট, দোহা, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, গুয়াংজু, কানাডা, নিউইয়র্কে রয়েছে একটি করে সেলস অফিস।

ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ারদের জন্য রয়েছে ইউএস-বাংলার স্কাইস্টার প্যাকেজ। এর মাধ্যমে টিকিটের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট সুবিধাও পেয়ে থাকেন যাত্রীরা। আন্তর্জাতিক রুটের বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের জন্য রয়েছে পিক-ড্রপ সার্ভিস, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণের পর ১০ মিনিটে ল্যাগেজ ডেলিভারি, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ২০ শতাংশ এবং সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা ও গলফারদের জন্য ১০ শতাংশ মূল্যছাড় সুবিধা।

শুরু থেকেই নিজস্ব ক্যাটারিংসহ ইন-হাউজ ট্রেনিং সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইন-ফ্লাইট সার্ভিস দিয়ে আসছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বর্তমানে প্রায় ১৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে তাদের। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কার্গো পরিবহন করে থাকে এই প্রতিষ্ঠান।

গত চার বছরে ইউএস-বাংলার পথচলায় একমাত্র বিয়োগান্তক ঘটনা নেপালের কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুর্ঘটনা। গত ১২ মার্চ ইউএস বাংলার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ বিমান অবতরণের সময় ৭১ জন আরোহীসহ বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ৫১ জন নিহত ও ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

খবর: বাংলা ট্রিবিউন।

Top