porno izle sex hikaye
corum surucu kursu malatya reklam

নাফাখুমের পথে

249281216084948.jpeg

বাসে করে ঢাকা থেকে বান্দরবন , বান্দরবনে নেমে সকালের নাস্তা করা । প্রায় ১০ ঘন্টার ভ্রমণের জন্য এই লাইনই যথেষ্ট কিন্তু এরপর থেকে শুরু হওয়া পথের বর্ণনা লিখে বুঝানো কোন ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব না । মুগ্ধতার প্রতিশব্দ হিসেবে ধরা যায় সেই পথটুকু ।

চান্দের গাড়িতে করে থানচির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম সবাই , ৭৯.৩ কিলোমিটারের পথ। চোখ জুড়িয়ে গেছে এই পুরো পথে । পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলা চান্দের গাড়ি । ডানে-বাঁয়ে সবুজে ঢাকা পাহাড় , উপরে নীল আকাশ , তার সাথে শীতল বাতাস – একেবারে পার্ফেক্ট কম্বিনেশন যাকে বলে । কিছুটা কষ্টের ছিল এই গাড়িতে দাঁড়িয়ে যাওয়া , তার পরও ঐ পথের পুরো রস আস্বাদনের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়াই বাধ্যতামূলক । সব ছাপিয়ে চোখের তৃষ্ণা নিবারণ ।

থানচিতে অপেক্ষা করছিল আরো চমৎকার কিছু – নৌকা ভ্রমণ । সাঙ্গু নদীর উপর দিয়ে রেমাক্রির পথে । স্রোতের বিপরীতে দুই থেকে আড়াই ঘন্টার পথ ছিল , চান্দের গাড়ি থেকে পাওয়া দৃশ্যকেও হার মানিয়ে দিলো ।এতো গভীরেও কোন মানুষ বাস করতে পারে তা জানা ছিল না । নৌকাকেই ঘর বানানো মানুষের দেখাও মিলল পথে । সেই সবুজের মাঝে এক পাহাড়ি ছোট্ট বালিকাকে দেখলাম সবুজ জামায় , তাকে যেন সদ্য আগত কোন পরী লাগছিল । মাঝ পথে বিশাল রাজা পাথর , রানী পাথরের দেখা মিলল । আমার কাছে কেন জানি না পাহাড়ের এক স্তরের উপর আরেক স্তরের যে দৃশ্যমান পার্থক্য থাকে তা খুব বেশি ভালো লাগে । হাজার বছর আগের জিনিস দেখছি বলে বেশ অবাক হই প্রতিবার । কালো পাড়ের ফিরোজা রঙের প্রজাপতি দেখলাম , প্রজাপতি কতটা সুন্দর হতে পারে জানলাম আবারো নতুন করে ।

অবশেষে রেমাক্রিতে পৌঁছালাম যেখানে আমরা ২ দিন থাকবো । থাকার জন্য নির্দিষ্ট জায়াগায় চলে গেলাম । আমাদের রুমটা ৬ জনের জন্য ছিল , শুধুমাত্র মাথা গুজার ব্যবস্থা বলতে যা বুঝায় । তবে এটা কোন সমস্যাই ছিল না যখন রুমমেট হিসেবে আসিফ , সামি , আরাফাত , হিমাদ্রি , শোভন থাকে । ঐদিন বিকেলেই সবাই(ছেলেরা) নামলাম সাঙ্গু নদীতে গোছল করতে । অসাধারণ কিছু মূহুর্ত পাড় করেছি । সেই মূহুর্ত লিখা একেবারেই সম্ভব না এরপর রাতের খাবার ৬ টায় খেতে ডাকা হলো , খেয়েদেয়ে রাতে ক্যাম্প ফায়ার হলো । আহ , আবারো মুগ্ধতা – সেদিন আবার দীপার জন্মদিন ছিল ।

সেদিন রাতের একটা ঘটনা না লিখে পারছি না । রাত ১০ টায় আমরা চারজন ঘুমালাম , সামি আর হিমাদ্রি বাইরে ছিল । ওরা আসছিল সম্ভবত ১২ টার দিকে । এরপর রাত ১/২ টার দিকে রুমে আসলো নাবিল ভাই আর আবির ভাই তারা তাদের রুমে এবং অন্য কোন রুমে আর জায়গা পায় নি দরজার সামনে কেউ না কেউ শুয়ে ছিল । আমাদের রুমে আসলো আমি টের পেলাম , চোখ বন্ধই ছিল । চোখ একটু খুলে দেখি আসিফ আমার এক হাত আর এক পা ধরে টান দিয়ে সরাচ্ছে – জিনিসটা হাস্যকর এবং ভয়ানক দুটাই ছিল ।

একদিন গেলো , এরপরের দিন সকালে নাস্তা করেই আমাদের মূল গন্তব্যস্থান নাফাখুমের পথে যাত্রা শুরু করলাম । তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টার পথ ছিল । সাঙ্গু নদী পাড় হয়ে সামনেই রেমাক্রি খাল ছিল তার গা ঘেষেই আমরা এগুতে থাকলাম , নাফাখুমের ছবি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম কিন্তু যাত্রাপথই যে এতোটা সুন্দর জানা ছিল না । বেশ কয়েকবার পানিতে নেমে এইপাড় হতে ঐ পাড়ে যেতে হয়েছে । খালের চিকন পাড় ঘেষে হাঁটতে হয়েছে , ক্লান্তি সবারই ছিল কিন্তু কাউকে কাবু করতে পারি নি । শ্যাওলায় সবুজ পানি , হলুদ-সাদা প্রজাপতি , গাছের ছায়া , পাহাড়ের গাঁয়ে শ্যাওলা – কত রঙের খেলা । অবশেষে নাফাখুম পৌঁছালাম , শীতকালেও এতো পানি দেখা ভাগ্যের ব্যাপার । সবাই ছবি তুলতে ব্যস্ত , একের পর এক ছবি উঠছে । আর মূল জায়গা থেকে বেশ পিছনে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আসিফ সাহেব পানিতে নামলেন এরপর এক এক করে অনেক যুবা-ই পানিতে নামলেন এবং নাফাখুমের পানিতে শরীরকে শীতল করলেন ।

প্রায় এক ঘন্টার মতো সময় আমরা সেখানে অবস্থান করলাম , এরপর ফেরার পালা । আরেকটা দিন চলে গেলো । পরদিন সকালেই বাড়ি ফেরার তোরজোড় , আবার নৌকা , থানচি থেকে চান্দের গাড়ি । এবার মাঝে নীলগিরি আর নীলাচলে যাওয়া । সমস্যা হয়ে গেছে আমরা যেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখে আসছি তার কাছে নীলগিরি থেকে দেখতে পাওয়া পাহাড়কে বেশ ডাল ভাত ঠেকছিল । নীলাচলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য আর এসব জায়গায় মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় , প্রকৃতির যে নিজস্ব একটা শব্দ আছে তার বিলুপ্তি ঘটেছে ।

রাতের খাবার খেতে গেলাম মিলনছড়ি । এই জায়গার পুডিং এর প্রশংসা না করে থাকতে পারলাম না । খুব বেশি মিষ্টি না তবে এর নির্লিপ্ত , নিষ্পাপ রঙ চোখ জুড়ায় আর স্বাদ দিলটা জুড়িয়ে দিয়েছে একেবারে । আর যা না বললেই নয় তা হলো স্থানীয়দের ব্যবহার অসাধারণ ছিল । তাদের মুখে বাংলা কথা বড়ই মধুর লেগেছে ।

১৭ তারিখ রাত থেকে ২১ তারিখ সকাল ৮ টা পর্যন্ত ৬০ জনের একটা পুরোদুস্তর দল সামাল দেয়া চাট্টিখানি কথা নয় । এডভেঞ্চার ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মসিঁয়ে আমাদের নাবিল ভাই সেই কঠিন কাজই ক্ষেত্র বিশেষে সরলতা এবং কঠরতার সহিতই করেছেন । নাফাখুমে যাওয়া আমাদের জন্য যতুটুকু সহজ ছিল তার চেয়ে অনেক কঠিন ছিল সেই যাওয়ার ব্যবস্থা করা । এর সাথে স্মপৃক্ত সকলেই ডালা ভর্তি ধন্যবাদ পান । আর যখন কোন শিক্ষকই বান্দরবন যেতে রাজী হচ্ছিলেন না ঠিক তখনই সাইদ স্যার সাগ্রহে আমাদের সাথে ভ্রমণে গিয়েছিলেন । এইজন্য স্যারও ধন্যবাদ পাওয়ার দাবীদার ।

এবার ধন্যবাদের পালা – ধন্যবাদ সকলকে । আলাদা আলাদা করে দিতে গেলে দুই একজন মন খারাপ করে ফেলতে পারে । সবাইকে ধন্যবাদ বিলিয়ে দিলাম ।

সবার শেষে – রাশিক আর রুহির মানসিক শক্তির প্রশংসা করতেই হয় ।

Top
antalya escort bursa escort adana escort mersin escort mugla escort