মিয়া বাড়িটি এখন ‘পাখি বাড়ি’

BARISAL-bird-house20170201183849.jpg

সাইফ আমীন, বরিশাল : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে পয়সারহাট পশ্চিমপাড় বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে মিয়া বাড়ির অবস্থান। প্রায় চার বছর আগেও এলাকার যে কারো কাছে মিয়া বাড়ির অবস্থান জানতে চাইলে বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশের বাড়িটি দেখিয়ে দিত।

তবে এখন ওই বাড়িটি  ‘পাখি বাড়ি’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। পার্শ্ববর্তী কয়েক উপজেলায়ও ছড়িয়ে পড়েছে এ পাখি বাড়ির নাম। সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই নিজ উদ্যোগে পাখিদের অভয়াশ্রমে পরিণত করা হয়েছে এই বাড়িটি।

প্রায় পাঁচ একর আয়তনের মৃত আব্দুর রশিদ মিয়ার বাড়িতে বিভিন্ন জাতের প্রায় চার হাজার গাছে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বসবাস। বাড়ির ভেতরে গেলে বুনো হাঁস, পানকৌড়ি, নিশিবক, সাদা বক, লাল বক, মাছরাঙা, ডাহুক, ঘুঘু, সরালি, কুদালীসহ শীতপ্রধান এলাকা সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসা নাম না জানা পাখিদের দেখা মিলবে।

পাখি বাড়ির মালিক মৃত আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে পাখিপ্রেমী রাসেল মিয়া জানান, প্রতি বছর শীত মৌসুমের শুরু থেকেই তাদের বাড়ির পাশের বিশাল জলাবদ্ধ চাষের জমিতে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত এ সকল পাখির দেখা মেলে। দেশি প্রজাতির পাখির সঙ্গে শীতের সময় ঝাঁকে ঝাঁকে আসে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি ।

BARISAL

সারাদিন দল বেঁধে পাশের জলাশয়ে খাবার খায় পাখিরা। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই রাত্রি যাপনের জন্য বিলের পাশ্ববর্তী বিভিন্ন বিল ও জলাশয় থেকে পাখিরা এসে আশ্রয় নেয়  তাদের বাড়ির বড় গাছের মগডালসহ নিরাপদ ঝোপ-ঝাড়ে। ভোর হলেই আবার খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন বিলে চলে যায় পাখিরা।

তিরি আরও জানান,  প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শিকারীদের শিকার, যান্ত্রিক শব্দ ও মনুষ্য সৃষ্ট বিরূপ পরিবেশের কারণে এলাকায় এখন আর আগের মত  পাখির বিচরণ দেখা যায় না। তার পরেও গত চার বছর ধরে তাদের বাড়িতে বাসা বেঁধেছে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পাখি। প্রতি বছর শীত মৌসুমের শুরুতেই তাদের বাড়িতে আসা শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। বাড়ির উঁচু গাছে দল বেঁধে থাকা শুরু করে পাখির দল।

রাসেল বলেন , শীত মৌসুমে পাখি আসা শুরু করলে পাখি শিকারের জন্য ব্যস্ত হয়ে পরে শিকারীর দল। প্রকাশ্যে ও লুকিয়ে চলে পাখি শিকার।

BARISAL

তিনি জানান, শিকারীদের হাত থেকে পাখিদের রক্ষা করতে দীর্ঘ কয়েক মাস দিনের বেশিরভাগ সময়ই বাড়িতে বা বাড়ির আশপাশের এলাকায় অবস্থান করতে হচ্ছে তাকে। কাজের জন্য কোথাও গেলে শিকারীদের হাত থেকে পাখিদের বাঁচাতে দুইজন নিজস্ব লোককে পাহারা দেয়ার দায়িত্ব  দেন।

পাখি প্রেমী রাসেল জানান, সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই নিজ উদ্যোগে পাখিদের অভয়াশ্রমে পরিণত করেছেন এই বাড়িটিকে। ইচ্ছে আছে পুরো গ্রামটিকে পাখিদের অভয়াশ্রমে পরিণত করার। তবে সরকারি সহযোগিতা বা পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া তার একার পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণের স্বার্থে অতিথি পাখি রক্ষায় সরকারসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশুতোষ রায় জানান, তিনি একমাস আগে এখানে বদলি হয়ে এসেছেন। এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তবে খোঁজ-খবর নিয়ে পাখিদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

Top