সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু

keari-sindabad-20171113134828.jpg

পর্যটন মৌসুম শুরুর প্রায় আড়াই মাস পর টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার (১৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় ২৯৮ জন পর্যটককে নিয়ে চলতি মৌসুমে প্রথম যাত্রা শুরু করে জাহাজ কেয়ারি সিন্দবাদ। চাহিদা থাকার পরও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমনের ঢল নামায় এতদিন সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দীর্ঘ ৬ মাসেরও বেশি সময় পর আবার পর্যটক আসা শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখছেন সেন্টমার্টিনের আবাসিক হোটেল-মোটেল-কটেজ ও রেঁস্তোরা মালিক এবং সংশ্লিষ্টরা।

কেয়ারি সিন্দবাদ জাহাজের টেকনাফের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য আমাদের জাহাজের পক্ষে সারা বছরের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু সাগর উত্তাল ও রোহিঙ্গা সঙ্কটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় সাড়ে ৬ মাস জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূল থাকায় আবারও পর্যটক পারাপারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। আগের নিয়মে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টায় টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে জাহাজ ছেড়ে যাবে।

সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের মানচিত্রের সর্ব দক্ষিণের বিচ্ছিন্ন ও একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ মানুষ পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল-মে পর্যন্ত পর্যটক সেবার আয়ে চলে এখানকার অধিকাংশ পরিবার। কিন্তু গত মে মাস থেকে রোববার পর্যন্ত পর্যটকবাহি জাহাজ চলাচল না করায় দ্বীপের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হচ্ছিল। সোমবার পর্যটকবাহি জাহাজ চালু হওয়ায় আবার দ্বীপের সবখানেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

ট্যুরস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের সদস্য ও দিগন্ত ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ার মুহাম্মদ জানান, জাহাজ চলাচল শুরু হওয়া পর্যটন সংশ্লিষ্টদের জন্য খুশির খবর। জাহাজে প্রথম দিনে ২৯৮ জন যাত্রি পাঠানো গেছে।  বনবিভাগের টেকনাফ বিট কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পুরো বছরের জন্য জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকলেও বর্ষায় এবং সাগর উত্তালের অন্য সময়ে জাহাজ ছাড়ার অনুমতি দিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না প্রশাসন। এরমাঝে রোহিঙ্গা সঙ্কট এবারের জাহাজ চলাচলের অনুমতি স্থবির ছিল। সোমবার থেকে আবারও ঘাটে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমতি সাপেক্ষে সেন্টমার্টিনে সোমবার জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। হোটেল, কটেজ, আবাসিক ও খাবার হোটেলসহ সবখানেই মূল্যতালিকা টাঙানোর নির্দেশনা দেয়া আছে। এ ছাড়া জাহাজ কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও ভাড়া আদায় থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর মুহাম্মদ বলেন, যেহেতু পর্যটনই দ্বীপের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তাই সংশ্লিষ্টদের পর্যটক সেবায় আন্তরিক হতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাটার সময় কেউ যাতে সৈকতের পানিতে না নামেন সে ব্যাপারে মাইকিং ও ফেস্টুনে প্রচারণা চলছে।

জাগো নিউজের সৌজন্যে এম ওমর কাউছার ।।

Top